মানুষের ক্ষুধা মেটাতে যুগে যুগে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যাচ্ছেন সকল প্রকার শষ্য ও ফলমুল নিয়ে, তার অন্যতম একটি হলো ধান। বর্তমানে ধানের যেই উৎপাদন সক্ষমতা তা আগে এমনটা ছিল না। বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার ফসল হিসেবে বর্তমানে আগের চেয়ে ২০গুন বেশি ফসল ফলানো হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন আবিস্কার নিয়ে আসলেন বাংলাদেশের জিনবিজ্ঞানী মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তাম ড. আবেদ চৌধুরী।
ড. আবেদ চৌধুরী প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ধানের মিশ্রণ ঘটিয়ে ‘পঞ্চব্রীহি’ নামের এমন ধান চাষ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে একই গাছ থেকে ৫ বার ধান ফলানো সম্ভব। পরত্যেকবার ধান কাটার সময় গাছের গোড়ালি থেকে না কেটে ৩০ সেন্টিমিটার উপর থেকে কাটতে হবে। সেই মুল কান্ড থেকে শুরু হবে নতুন গাছ এবং নির্দিষ্ট সময়ে দিবে নতুন ধান।
সারাদেশের কৃষকদের মধ্যে এই ধান চাষের কৌশল ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্ভাব্যভাবে আগামী ৫০ বছরের জন্য সমগ্র জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। তার এই গবেষণা কৃষকদের সময় এবং অর্থ সাশ্রয়ে সাহায্য করবে। পাশাপাশি তিনি ঠিক করেছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই পদ্ধতি দেশের চাষীদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন! এ ধান ৩ গুন কম খরচে উৎপাদন করা যাবে বলে জানান
"পঞ্চব্রীহি ধান চাষে প্রথম বার ১১০দিন পর ফলন আসে। পরের ফলন আসে ৪৫ দিন অন্তর। ১ বার বোরো, ২ বার আউশ ও ২ বার আমন ধানের ফলন পাওয়া যাবে। পঞ্চব্রীহি ধানে প্রথমবার হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয় ৪ টন। ধানের চারা প্রতি ৪ সে. মি. দূরত্বে রোপণ করতে হয়।"
তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অষ্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনের অর্থায়নে বিডিওএসএনের তত্ত্বাবধানে ১ বছর মেয়াদি প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষ শুরু করা হয়েছে। সেখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরবর্তীতে ধানের এ বীজ সর্বস্তরের কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে।